একদিন আলো আসবেই
মুকুল কান্তি ত্রিপুরা
---------------------------------------
ভোরের আলোয় মিশ্রিত পাহাড়ের সৌন্দর্য
যেন পরিপূর্ণ রুক্ষতার আল্পনায়।
‘নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য’ অথবা
‘প্রকৃতির রাণী’
শব্দগুলো
বড্ড এলোমেলো, অযত্নে হাহাকার বঞ্চনায়।
চেঙ্গী, মাইনী, কাচালং, কর্ণফুলীর
বহতার প্রতিবন্ধকতায় শত রোমন্থনও আজ স্তব্ধ।
সমস্ত ঝর্ণাধারার সুরের ঝংকারে পাহাড়ের
অশ্রুঝরা বিদগ্ধ হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত।
কোথাও পর্যটন, কোথাও কাপ্তাই বাঁধ,
কোথাও ফাইভ স্টার,
কোথাও কৃত্রিম পার্ক,
যেন বুক পাতানো পাহাড়ে অবিরাম ছুটে চলা
নৃসংশ আঘাতের প্রতিচিহ্নের দাগ।
আর কতটা প্রহর গুণতে হবে অপেক্ষার?
কতটা সবুজ হারাতে হবে পাহাড়ের?
কতটা সুমধুর সুর থামাতে হবে ঝর্ণার?
কতবার বয়ে যেতে হবে রক্তের বন্যা?
হ্যাঁ, কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে কোন একদিন
সমস্ত অন্যায়-অবিচার বঞ্চনার প্রতিদানে,
যেদিন রুখে দাঁড়াবে স্বপ্নচারী প্রজন্ম,
দ্রোহের আগুনে দগ্ধ প্রতিটি প্রাণ
এগিয়ে যাবে সুন্দর পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে।
সেদিন পূর্ব দিগন্তের স্বর্ণালী ঊষাতে
প্রাণবন্ত হাসি ফুটে উঠবেই উঠবে।
কেটে যাবে নীলাভ গগনের ঘন কালো মেঘ।
আলোকিত হবে পৃথিবী নতুন ভোরের আলোয় ।
নব পল্লবে ভরে উঠবে পাহাড়ের সমস্ত বৃক্ষলতা।
ঝর্ণার সমধুর সুরে বেজে উঠবে পাহাড়ের জয়গান।
