শীতের সকালে চাঁদর মুড়ি দিয়া কেউ কাজে যাইতেছে ,কেউ হাঁটাহাঁটি করিতেছে। কুয়াশা ডাকা আকাশে সূর্য উঠিবার খবর নাই। হাড়ি ভরা খেজুর রস নিয়া বাড়ির উঠান হইতে হাঁটিয়া যাইতেছে কেউ আবার কেউ লাঙ্গল কাঁধে করিয়া গরু লইয়া মাঠে যাইতেছে হাল চাষে। দশ বছর আগে মারা গিয়েছিল খাপাং। রাখিয়া গিয়াছিল বৌ ও এক ছেলে এবং আড়াই একর জমি। তাহার মৃত্যুর পর হইতে জমিতে পড়েনি কোন লাঙ্গল , মনুষ্য সমান গজিয়ে উঠিয়াছে খড়-নড়ি জঙ্গল। রেখে যাওয়া সম্পদ সবকিছু ফুরাইয়া আসিতেছে। পেটের দায়ে অবুঝ , বোকা ছেলেটি পৈত্রিক বাড়িটাও করিয়া দিয়াছে। বহু কষ্ট করিয়া মা ছেলে মিলিয়ে খড় ও নড়ি দিয়া তৈরি করিয়াছে ঘর।
সাম্পারি : (ছেলের কষ্ট দেখিয়া) রাত অনেক হইয়াছে আইস মোরা শুইয়ে পড়ি । আমি বিছানার পাশে আগুন জ্বালাইতেছি। শুয়ে পড়িল মা ছেলে পাশাপাশি। এক দিকে ক্ষুধার জ্বালা , কাপড়ে অভাবে সুনিদ্রা হয় না , অন্যদিকে ছিদ্র ছাঁদ হইতে টপা-টপ কুয়াশার ঠান্ডায় ঘুম হয় না। বৃষ্টির মতো কুয়াশা আর শীত কখনো ঘুমিয়ে পড়িয়া যায় , আবার কখনো ঘুম ভাঙ্গে। ( মনে মনে মা বলিয়া উঠে শীতের লগে কি মোদের কোন বিরোধ আসে) শেষ প্রহরে মায়ের ঘুম ভাঙিল। বাবা হাদুক বলিয়া ডাকিল !
হাদুক : ( একটু মাথা নেড়ে) হ্যাঁ , মা ।
সাম্পারি : খুব জল পিপাসা পাইয়াছি , এক গ্লাস জল দে , বাবা।
হাদুক : ( একটু উঠে দাঁড়ালো) হ্যাঁ , মা। দিচ্ছি এই নাও জল।
সাম্পারি : ( নিঃশ্বাস ফেলিয়া) গলা শুকাইয়া গিয়াছিল , এবার প্রশান্তি পাইলাম।
হাদুক : দুজনে শুয়ে পড়িলে চাঁদরটা দিয়ে ফেলিল মা'কে । মাতৃ বলিয়া শুতে থর থর কাঁপন অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়িল।
সাম্পারি : ভোর হইলো। জল আনিব বলিয়া কলসি হাতে পুকুরের উদ্দেশ্যে রওনা হইলো। পথে দেখা হইলো খাপাংনি মায়ের লগে। ও খাপাংনি মা কোথায় যাইতেছ ?
খাপাংনি মা-দাঁড়াইয়া রহিল) পুকুরে যাচ্ছি গোসল করিব বলিয়া। তুমি যাচ্ছো কোথায়?
সাম্পারি : ওহ , আমিও জল আনিব বলিয়া পুকুরে যাইতেছিলাম। পুকুর হইতে জল লইয়া আসিলাম। কলসি হাত হইতে নামাইয়া চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়াছিলাম রান্না করিব বলিয়া। হাড়ি হাতে সিন্দুক খুলিয়া দেখিলাম দুমুঠো চাউল হইবে। ( জোরে) ও খোকা! ঘরের ভিতরে চক্ষু মেলিয়া খুঁজিতে লাগিলাম , কোথাও দেখিতে পাইলাম না। মোর অবুঝ , অলস ছেলেটি গিয়াছে কোথায়?
হাদুক : চলিয়া গিয়াছে পাশের প্রতিবেশী সুমনদের বাড়িতে। এই সুমন , বফাং তোমরা কোথায় ? এসো মার্বেল খেলা খেলি ।
সুমন : ( দরজায় উঁকি দিয়ে) এই তো মোরা।
হাদুক : অমনি সূর্য মিট মিট করিয়া উদিত হইতে লাগিল। গাছের পাতায় কুয়াশা পরার আওয়াজটা যেন এক আনন্দদায়ক অনুভব করিতেছে তারা। কখনো মার্বেল খেলা আবার কখনো ঘুড়ি খেলায় মেতে উঠিয়াছে তারা।
বফাং : ( চিৎকার করে) হাদুক , সুমন আমি আর পারতেছিনা ক্ষুধার জ্বালায়।
সুমন : ( ক্লান্ত অবস্থায়) আমারও একই অবস্থা। আসি হাদুক , এই বলিয়া ঘরে ডুকে পড়িল।
হাদুক : ( সূর্যের তাপে মাথায় হাত দিয়ে) ঠিক আছে। বাড়ি ফেরার পথে জুম খেতে কাজ করিতেছে দেখিতে পাইলাম নাইথক দাদুকে। আরে দাদু এতো গরমে পুড়িয়ে কাজ করিতেছেন যে !
নাইথক : ( দা এক হাতে অন্য হাতে ঘাম মুছে) কাজ করিতে হইবে। মাথার ঘাম না ফেলিয়া মুখে আহার তুলিয়া দিবে কে ? ছেলে মেয়ে উভয়েই উচ্চ শিক্ষিত হইয়াছে , চাকরি করিয়া থাকে কিন্তু মোরে খবর নেই না। বড় ছেলে বিলাতি মেয়ে বিয়ে করিয়াছে বলে। গত মাসে চিঠি আছিল। চিঠিতে লিখিয়েছেন বিলাতি বৌ ঘরে পৌঁছাবার আগে মোরা যেন বৃদ্ধাশ্রমে যায়।
হাদুক : ( হালকা মাথা নেড়ে)
নাইথক : ভাত খেয়েছ ? দাদুভাই।
হাদুক : (ক্ষুধার জ্বালায় আস্তে) না , দাদু। বাড়িতে গিয়ে মায়ের লগে খাবো। এই তো জঙ্গল হইতে ডুমুর ফল , আবর্জনা হইতে কুড়িয়ে পাওয়া রুটি টুকরো আছে।
নাইথক : (তাড়াহুড়ো করিয়া) না রে ! দাদুভাই। তা কি করিয়া হইবে। আমার এই খাবার হইতে সামান্য অংশটুকু তুমি আহার না করিলে বিধাতা মোরে ক্ষমা করিবে না।
হাদুক : ( হালকা মাথা নেড়ে)
নাইথক : ( হাসি মুখে) এসো , দাদুভাই। হাদুকের হাত ধুইয়ে দিয়ে কলার পাতায় দুজনে এক খাইলেন ।
হাদুক : ( গম্ভীর হয়ে) তার মনে পড়িল বাবার কথা। বেলা পাঁচটা বাজিয়ে ঘরে ফিরিল।
সাম্পারি : ( জড়িয়ে ধরে) মোর সোনার টুকরো। তোমারি ছাড়া এই দুনিয়ায় মোর কেহ নাই , খোকা। বুড়ো হইয়াছি , মোরে একখান সুন্দরী বউ আনিয়া দাও।
হাদুক : বৌ! বৌ পাবো কোথা হইতে ? বৌ মোর ভালো লাগেনা , মা।
সাম্পারি : ( অবাক হয়ে) বলো কি, খোকা।
হাদুক : হ্যাঁ , মা । তুমি বরং মোরে আদেশ করো যে মোর বাড়ির প্রতিবেশী এবং গ্রামীণ প্রকৃতির সঙ্গে মিশিয়ে যেতে। ইহাতে মোদের পরিবারের সঙ্গে প্রকৃতির সুসম্পর্ক গড়ে উঠিবে।
সাম্পারি : বিধাতার লিখন স্বচোখে দেখিতে পাই না। সময় হলে এমনি বৌ চলিয়া আসিবে।
হাদুক : হ্যাঁ । বলিয়া ঘুমোতে গেল।
রতন : একদা গ্রীষ্মকালে মোদের বাড়িতে বেড়াতে আসিল রতন মামা। ( এদিকে ওদিক তাকিয়ে) দিদি ! ও দিদি?
সাম্পারি : ( তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে) কে ? ওহ রতন!
রতন : (দাঁড়িয়ে) হ্যাঁ , আমি। কতদিন হইলো তোদের দেখা নেই। মোর জুম চাষের ফলন ভালো হইছে তাই ভাবিলাম দিদি রে ভূট্টা , মরিচ কিছু তরিতরকারি দিয়া আছি।
সাম্পারি : ওহ আচ্ছা। ( ভাংগা চেয়ার টেনে দিলো) আসুন বসুন। ঘরে সবাই কেমন আছো?
রতন : মোটামুটি ভালো। তোমাগো অবস্থা কেমন? দিদি। ভাগ্নে হাদুক কই? তারে দেখিতে পাইতেছি না তো!
সাম্পারি : (মনমরা) আর বলিও না , সুখে দুঃখে চলিতেছে দিনকাল। পোয়া অলস , মাঠে কাম কর্ম কিছুই করে না। সারাদিন বন্ধর লগে ঘোরাঘুরি করিয়ে থাকে। কই গিয়াছে কে জানে?
হাদুক : এদিকে হাদুক আপন মনে বেরিয়ে পড়িল ঘুরিব বলিয়া। কোথায় গিয়া পৌঁছিবে ? হাঁটিতে থাকিল! রতন মামার বাড়ি এবং জুম চাষ পেড়িয়ে পা চলিতে লাগিল গন্তব্য থামিয়া নাই। যাইতে যাইতে একটি বিশাল জুম চাষের দেখা মিলিলো , তাতে রহিয়াছে একটা গাইরিং ঘর । শো শো বাতাস বইতেছে। ( মনে মনে বলিল) এখানেই বসিয়া বাঁশি বাজাইয়া মনে প্রশান্তি ফিরিয়া আনিতে হইবে । উঠিল গাইরিং ঘরে। আহা কি মৃদু বাতাস বইতেছে ! কোমর হইতে বাঁশিটা বাহির করিল আর বাজাইতে থাকিল। এদিকে ইমাংতি কাজে আসিবার সময় হইয়াছে ।
ইমাংতি : ঘর হইতে বেড়িয়ে আসিতে লাগিল। আসিতে আসিতে তাদের জুম খেতে পৌঁছিবার কাছাকাছি ( কান পেতে) হঠাৎ এদিক ওদিক তাকিয়ে দাঁড়াইয়া রহিল। এ কিসের সুর ? কোথা হইতে এই মাতাল বাঁশির সুর আসিতেছে?
তাড়াহুড়ো করিয়া হাঁটিতে হাঁটিতে পৌছাইল জুম খেতে। আস্তে আস্তে এক পা দু'পা করিয়া চলিতে লাগিল গাইরিং ঘরে। চুপচাপ বসিয়া রইলো হাদুকের পিছনে। এদিকে হাদুক আপন মনে বাঁশি বাজিয়ে চলিল। (মনে মনে বলি) ইমাংতি , কি মিষ্টি বাঁশির সুর? ইনি কে ? মোদের জুম খেতে কি করিয়া থাকে? কোন জাদুকরী বাঁশি ওয়ালা নহে তো! এমন ভাবিতে ভাবিতে ঘুম আসিয়া মাথা ঠুকে পড়িল হাদুকের ওপর।
হাদুক : (চমকে) কে কে ?
ইমাংতি : ( মাথা নিচু করে) আমতা আমতা করিয়া বলিল , আমি।
হাদুক : ( অবাক হয়ে তাকিয়ে) তুমি! তা মোর গাঁয়ের ওপরে পড়িলে ক্যান?
ইমাংতি : (লাজুক চোখে) কি করিব ? দোষটা তো তোমার।
হাদুক : দোষটা মোর মানে ! আমি কি দোষ করিলাম ? ওহ বুজিয়া গেছি , তোদের গাইরিং ঘরে বসিয়া বাঁশি বাজাইতেছি ইহা বলিয়া?
ইমাংতি : ( তখনও মাথা নিচু ) না। দোষটা হইতেছে তোমার ঐ বাঁশির সুর।
হাদুক : মোর বাঁশির সুর! ( কাঁদো কাঁদো গলায়) হায় হায়! বাঁশির সুর দোষ করিয়া থাকে , আমি জীবনে কখনো শুনি নাই। হে ভগবান মোরে রক্ষা করো।
ইমাংতি : ( বিরক্ত হয়ে) দূর বোকা, কাঁদিতে নেই। দোষ করিয়াছ বলিয়া কি কাঁদিতে হয়? দোষ করেছ তুমি আর তোমার বাঁশির সুর।
হাদুক : আমি তো কি করিব ! মোরে ক্ষমা করিয়া দাও। জিন্দেগীতেও মুই আর তোমাগোর জুম খেতে আসিব না।
ইমাংতি : (বসিয়া দিল) তা হইবে না। ক্ষমা করিতে পারি একখান শর্তে।
হাদুক : (মাথায় হাত দিয়ে) শর্ত! আফা , মোর কিছুই নাই । শর্ত ছাড়াই মোরে ছাইড়া দিলে হয় না?
ইমাংতি : (মনে মনে হেসে) না। দূর মোরে আফা ডাকিতে নাই। তোরে শর্ত ছাড়া ছাইড়ান দেওন যাইবো না । শুইনা লও!
হাদুক : ( বিমুখ অবস্থায়) মাথা নাড়লো।
ইমাংতি : রোজ বিকেলে মোদের জুম খেতে আসিতে হইবে। গাইরিং ঘর ইহাতে দক্ষিণ দিকে বসিয়া বাঁশি বাজাইতে হইবে । আমি রিনাই ( হাতে তৈরী কাপড়) পড়িয়া , বুকে রিসা দিয়া আর মাথায় কাবাং (বাঁশের তৈরী এক ধরনের খাঁচা) দিয়া তোমার সামনে আসিয়া নাচিতে থাকিব।
হাদুক : এসব বলিস কি? ( এত সুন্দরী মেয়ে কি আবোল তাবোল বলে) ঐসব পরিধান করিলে তো তোমারে জ্বীন , পরী দেখাইবে। আর মোর সামনে নাচিলে তোরে লোকে পাগল বলিবে তো !
ইমাংতি : ( গলায় হাত দিয়ে) না রে বোকারাম ! বলিবে স্বর্গ হইতে দুই স্বর্গদূত ভুবনে আসিয়া প্রেম করিতেছে।
হাদুক : ( দাঁড়ানোর অবস্থায়) মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
ইমাংতি : তুমি জানো কতক্ষণ ধইরা তোমার লাইগা বসিয়া আসি !
হাদুক : কেন?
ইমাংতি : কেন কেন কইরো না তো! এতো দেরি হইছে কেন? তুমি জানো না তোমার লাইগা আমি বইসা আছি।
হাদুক : মোর লাইগা তুমি বইসা থাকিবে কেন?
ইমাংতি : ( রাগ মুখে) দূর গাদা ! যেদিন তোর মাতাল বাঁশির সুর শুনিয়াছি তখনি হইতে তোরে ভালবাইসা ফালাইছি ।
হাদুক : তুমি বলো কি? বৌ , ভালবাসা ঐসব মোর ভালো লাগেনা।
ইমাংতি : তাইলে কি ভালো লাগে শুনি? ছাগলের মতো সারা জঙ্গল , গ্রাম ঘুরিয়া বেড়াইতে? মোরে ভালবাসো , মোর কাছে আইছো , বন্ধু হইয়া সর্বদা পাশে থাইকো ! কি বলো?
হাদুক : বেশি হইয়া যাইতেছে কিন্তু।
ইমাংতি : মোরে ভালো না বাসিলে কান ধরি তোর মায়ের কাছে লইয়া যামু।
হাদুক : ( নিরুপায় হইয়া) এ এই মেয়েটা কি বলে , দেইখো মা মোরে জোর করিয়া বিয়া দিতে চাই। আর তুমি লইয়া যাইবে মোর মায়ের কাছে!
ইমাংতি : ( হাসি মুখে) হ্যাঁ , নিয়া যামু। অনেক হইয়াছে এখন বাঁশি বাজাইতে থাক।
হাদুক : (আস্তে করে) গাইরিং এ বসিয়া বাঁশিটা বাহির করিল। তারপর ধীরে ধীরে বাজাইতে থাকিল ।
ইমাংতি : ( খুশিতে) হাদুকের কাঁদে ওপর মাথা পেতে রাখিল।
হাদুক : ( বাঁশি বাজানো থামাইলো) কি হইতেছে কি?
ইমাংতি : (কাঁদে হাত বুলিয়ে) তুমি বাজাইতে থাক , আমি শুনিতে পাইয়াছি।
হাদুক : ( নিরুপায়) লক্ষী ছেলের মতো আবার বাঁশি বাজাইতে থাকিল।
ইমাংতি : ( মনে মনে ভাবিতেছে) কোথা হইতে এই কৃষ্ণ মধুর বাঁশি আনিয়াছে! নিশ্চয়ই রাঁধার খোঁজে বেরিয়ে মোর দেখা হইয়াছে।
হাদুক : অনেকক্ষণ পর বাঁশি বাজানো বন্ধ করিল।
ইমাংতি : তুমি খুব ভালো বাঁশি বাজাইতে পারো । আচ্ছা , বাড়িতে কে কে থাকে?
হাদুক : আমি আর মা।
ইমাংতি : আমিও তোদের ঘরে যাইব।
হাদুক : ( কাছ হইতে সরে গিয়ে) তুমি ? তুমি আবার মোদের ঘরে গিয়ে কি করিবে?
ইমাংতি : আমিও তোমাদের সাথে থাকিব।
হাদুক : তোমার কি মস্তক খারাপ হইয়াছে ? মোদের ঘরে কিছুই নাই , তরে নিয়া খাওয়াইতাম কি!
ইমাংতি : তোমরা যাহা খাইবে আমিও তাই করিবো।
হাদুক : মোদের ঘরে যাইলে তোমাকে না খাইয়ে থাকিতে হইবে।
ইমাংতি : থাকিব। নিয়ে চলো না মোরে !
হাদুক : ( নিরূপায়) ভাবিতেছে মনে মনে এ কিছুতেই ছাড়িবে না , নিয়ে যাইতে হইবে।
হাদুক : চারিদিকে পাখি , কীট পতঙ্গের ধ্বনি শুনিতে শুনিতে সন্ধ্যা হইলো বাড়িতে পৌঁছাতে। মা -
ও মা বলিয়া ডাকিল !
সাম্পারি : (দরজা উঁকি দিয়ে) কে বলিয়া ঘর হইতে বেড়িয়ে আসিল । ও খোকা ! আইস , ভিতরে ভিতরে বসেন। তো মেয়েটা কে? খোকা।
হাদুক : ( মাথা চুলকাতে থাকে) আমতা আমতা করিয়া বলিল "ইনি"।
সাম্পারি : "ইনি" কি?
হাদুক : তোরে যাহার কথা বলিয়া ছিলাম।
ইমাংতি : ( পা ধরিয়া) প্রণাম মাতা ! মোর নাম "ইমাংতি"।
সাম্পারি : বেঁচে থাক মা , বেঁচে থাক।
হাদুক : মা , ওনাকে মোদের ঘরে আনিতে চাইনি , মোদের অবস্থার কথা বিবেচনা করিয়া।
সাম্পারি : ভালোই করিয়াছ , কত স্বপন দেখিতাম এইরকম সুন্দরী গুণবতী বৌ মোর ঘরে পা রাখিবে । মোর ছেলেরে ভালবাসো ?
ইমাংতি : ( মাথা নিচু করে) বলিল , হ্যাঁ।
সাম্পারি : খুব খুশি হইয়াছি , ( দুজনে হাত দিল) হাত দাও বৌমা ! বলিল , আজ হইতে মোর এই অবুঝ , অলস ছেলেটিকে তোমার গলায় ঝুলাইয়া দিলাম । তাহাকে জ্ঞান - বুদ্ধি , মানসিক প্রগতির ফিরাইয়া আনতে একমাত্র তুমিই পারিবে। তুমি তাহার মস্তকের মুকুট হিসেবে কাজ করিবে। মোর পরিবারের সমস্ত সম্পদ , জমি-জমা তোমারি হস্তে তুলিয়া দিলাম।
ইমাংতি : আমি খুব খুশি হইয়াছি মা , কেননা তোমারি পুত্রবধূ হইতে পারিয়া এবং তোমারি উদারতা দেখিয়া।
অতঃপর পরিবারের দায়িত্ব নিজ কাঁধে বহন করিয়া নিল।
শ্বশুর মশাইয়ের রেখে গিয়াছিল অনেক জমি , তাহাতে ধান চাষ করিয়া ইহাতে ভালো ফলন হইলো। পুনরায় ফিরাইয়া আছিল পরিবার পূর্বের ধন-সম্পদে। নিজ ইচ্ছা শক্তি ও ভালোবাসায় সুসম্পন্ন ভাবে গড়ে তুলিল হাদুককে।
হাদুক : তোমারি মতো গুণবতী স্ত্রী পাইয়া মোর হৃদয়খানি হইলো আজি ধন্য।
